অনলাইন ডেস্ক:
দেশের শেয়ারবাজারে চলমান দরপতন নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায়, এমন পতন শেষবার দেখা গিয়েছিল মহামারি করোনাভাইরাসের শুরুতে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রতিদিনই কমছে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম। এতে করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (২০ মে) লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৭৬ পয়েন্টে, যা ২০২০ সালের ২৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন। একইভাবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১,০৪১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১,৭৭১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
ডিএসইতে মোট ১২৫টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি—২০২টির শেয়ারদর কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ৭০টির দর।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ৫৬টি কোম্পানির দর বেড়েছে, যেখানে ১৩৫টির দর কমেছে।
মাঝারি মানের (১০ শতাংশের কম লভ্যাংশদাতা) ৪১টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ২৭টির কমেছে এবং ১৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘জেড’ গ্রুপভুক্ত বা লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৭টির দর বেড়েছে, ৪০টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩৬টির মধ্যে মাত্র ৫টির দর বেড়েছে। ২৪টির দর কমেছে এবং ৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৮৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল:
ওরিয়ন ইনফিউশন: ১৪ কোটি ৯ লাখ টাকা
বিচ হ্যাচারি: ১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা
মিডল্যান্ড ব্যাংক: ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা
তালিকায় আরও রয়েছে: সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, এনআরবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড এবং শাহিনপুকুর সিরামিক।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৫ পয়েন্ট কমেছে। এখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৯টি কোম্পানির মধ্যে:
দাম বেড়েছে: ৫৭টি
দাম কমেছে: ১০১টি
অপরিবর্তিত: ৩১টি
সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে ছিল ১০ কোটি ১ লাখ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা অনেকটাই ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়কার অবস্থার সঙ্গে তুলনীয়। সেই সময়ও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক এবং বাজারের লাগাতার দরপতনের কারণে টানা ৬৬ দিন শেয়ারবাজার বন্ধ রাখা হয়েছিল।
দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। সূচকের এমন পতন এবং লেনদেনের হ্রাস শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ, যাতে করে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।











