নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ সকালে রাজধানীর মগবাজারে ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি রাজনৈতিক সংকট নিরসনে অর্থবহ সংলাপের আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “আমরাই তাকে (প্রধান উপদেষ্টা) এই দায়িত্ব দিয়েছি, তিনি জোর করে দায়িত্ব নেননি। আমাদের দায়িত্ব তাকে সহযোগিতা করা। সংঘাত ও কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্য দিয়ে জাতিকে আর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। এজন্য প্রয়োজন অর্থবহ ডায়ালগ, যার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই।”
ডা. শফিক আরও বলেন, “বর্তমানে দেশে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। আমরা মনে করি অর্থবহ আলোচনা-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
সরকার পরিবর্তনের পর ৯ মাস পার হয়ে গেছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা তার কথায় আস্থা রাখতে চাই। আমরা দুটি রোডম্যাপ চেয়েছিলাম—একটি সংস্কার এবং অন্যটি নির্বাচন নিয়ে। কিন্তু এখনও কোনো রোডম্যাপ আসেনি। জনগণের আস্থা ফেরাতে এই রোডম্যাপ প্রকাশ জরুরি।”
মানবিক করিডোর প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এখন দেশে পার্লামেন্ট নেই। জাতীয় স্বার্থ জড়িত এমন বিষয়ে রাজনৈতিক দল, সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় নির্বাচিত সরকারের ওপর এই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিলে।”
সেনাবাহিনীর কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা যেন কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয়। তাই সেনাবাহিনী নিয়ে যেকোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।”
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “৭১ থেকে আজ পর্যন্ত অনেক অর্জনের সম্ভাবনা ছিল। কিছু বাস্তবায়িত হলেও জনগণের মূল দাবি পূরণ হয়নি। ২০২৪ সালে যা ঘটেছে, তা ছিল নির্মম। যারা দীর্ঘ ১৫ বছর দুঃশাসন চালিয়েছেন, তাদের বিচারের কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না। বিচার না হলে অপরাধ বাড়বে। তবে বিচারের নামে অবিচারও আমরা চাই না।”











