নিজস্ব প্রতিবেদক:
দশ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকে রবিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে চলছে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট। এতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বন্ধ রয়েছে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ধর্মঘটের কারণে রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মধুবাগ, শাহজাহানপুরসহ বেশিরভাগ এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে জ্বালানি সংকটে পড়েছেন বাইকার, রাইড শেয়ারিং চালক ও প্রাইভেট গাড়ির চালকরা।
উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা বাইকার জিয়া হোসেন বলেন, “সকালে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বের হলে দেখি, আশপাশের সব পাম্প বন্ধ। অনেকেই জানে না আজ ধর্মঘট চলছে। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাইনি।”
রাইড শেয়ারিং চালক মনসুর জানান, “প্রতিদিন সকালে তেল নিয়ে রাস্তায় নামি। আজ সব পাম্প বন্ধ। বাইকে তেল না থাকায় কাজ বন্ধ করে বসে থাকতে হচ্ছে।”
একই অভিযোগ করেছেন প্রাইভেট গাড়ির চালক নজরুল, “কিছু পাম্পে তেল থাকলেও কর্মচারীরা বিক্রি করছে না। এ কারণে রাস্তায় গাড়ির চাপও কম।”
ধর্মঘটে অংশ নেওয়া রামপুরার হাজিপাড়া পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী আকবর বলেন, “সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। এই সময় তেল উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।”
ঐক্য পরিষদের প্রধান দাবি হলো তেল বিক্রির কমিশন ন্যূনতম ৭ শতাংশ করা এবং সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল আগের হারেই বহাল রাখা। এছাড়াও তারা পাম্প সড়ক সংযোগের ইজারা নবায়নের নিয়ম সহজ করা, বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদপ্তিসহ বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স ও ফি বাতিল, এবং অননুমোদিতভাবে তেল বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সকালে পাম্প মালিক ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে। ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।











