নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিভক্ত করে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত ঘিরে কর প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার সরাসরি এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণ দাবি করে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকায় ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যানের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থার চরম সংকট তৈরি হয়েছে; এ অবস্থায় তাঁর পক্ষে এনবিআরের নেতৃত্ব দেওয়া আর গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত কর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন, উপকর কমিশনার রইসুন নেসা এবং এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব শাহাদাত জামিল। তারা বলেন, “যে কর্মকর্তা অধীনস্থদের আস্থা হারিয়েছেন, তার নেতৃত্ব এনবিআরের জন্য ক্ষতিকর।”
উল্লেখ্য, গত ১২ মে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুটি বিভাগে বিভক্ত করার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে ১৩ মে থেকে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ও কলমবিরতি কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনের চাপে সরকার গত সপ্তাহে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ভিত্তিতে ২৫ মে রাতে কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও, এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজস্ব ঘাটতি রোধে আন্দোলনরত কর্মকর্তারা প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩–৪ ঘণ্টা কাজ করবেন। পাশাপাশি, জুন মাসে “কেমন এনবিআর চাই” শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজনেরও ঘোষণা দেন তারা।
সংগঠনটির প্রধান ৪ দফা দাবি হলো:
১. জারি করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অবিলম্বে বাতিল।
২. এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ।
৩. রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ওয়েবসাইটে প্রকাশ।
৪. এনবিআরের খসড়া সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “রাজস্ব প্রশাসন অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে যেকোনো পরিবর্তন আনতে হলে তা হতে হবে পর্যালোচনা, সমন্বয় ও আস্থার ভিত্তিতে।”











