দুর্নীতির অর্থ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতি, ব্যাংক জালিয়াতি, করখেলাপ এবং পাচার হওয়া অর্থ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি মনে করেন, এসব অর্থ বাজেটে যুক্ত করলে তা হতে পারে বাজেটের একটি “অভিনব উৎস”।

শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, “গত সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক ঋণের চাপ ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান সরকার ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করে এ চাপ কিছুটা লাঘব করেছে। এছাড়া বহির্বাণিজ্য, রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা সফল হয়েছে।”

তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন বাজেট গতানুগতিক হতে চলেছে। “নতুন করে খেলাপি ঋণ আদায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কিংবা করের আওতা বাড়ানোর মতো কোনো পরিকল্পনা না থাকায় এবারের বাজেটে চমক নেই,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প অতিমূল্যায়িত; এর ৪০ শতাংশ ব্যয়ই ভুয়া। আগের সরকারের কিছু ব্যয়বহুল প্রকল্প এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা আর্থিক রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে।” রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অসংগতি ও বৈষম্যমূলক কর কাঠামো করদাতাদের নিরুৎসাহিত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ও স্থিতিশীলতা আশানুরূপ অর্জিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।