মো: সাকিক হারুন ভূঁইয়া:
ভোটার তালিকায় তরুণদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পুরোনো ভোটার তালিকা নয়, তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তেও যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। এরই মধ্যে, ১৮ বছর পূর্ণ করা বা আগামী ১ জানুয়ারিতে ১৮ বছর বয়সী যারা, তাদেরকে ভোটার হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৭ বা তার পূর্বে, তারা যদি এখনও ভোটার না হন, তাদের সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া, যারা জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভুল সংশোধন করতে চান, তাদেরও জরুরিভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
বর্তমানে সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে। ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণ করা এবং তালিকায় বাদ পড়া ব্যক্তিদের নতুনভাবে তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে। যাদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়নি, তারা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটার হতে হলে পাঁচটি তথ্য বা কাগজপত্র দিতে হবে বলে জানিয়েছে। এগুলো হলো:
১. ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদের কপি,
২. জাতীয়তা/নাগরিকত্ব সনদের কপি,
৩. নিকট আত্মীয়ের (পিতা-মাতা, ভাই-বোন প্রভৃতি) এনআইডির ফটোকপি,
৪. এসএসসি/দাখিল/সমমান অথবা অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদের কপি (যদি প্রযোজ্য হয়),
৫. ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি/চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদ)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্বাচনি কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তরুণদের ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ভোটার হওয়ার যোগ্যরা ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে, বর্তমানে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম প্রতি বছর আইনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী করা হয়। এর পর নির্বাচন হলে, পুরোনো তালিকা দিয়েই ভোট আয়োজন করা হয়। এ কারণে অনেকেই প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
এ বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সাধারণত সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হয় এবং তফসিল ঘোষণার আগে তালিকা হালনাগাদ করা হয় ২ মার্চ। ফলে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অনেক তরুণ ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারেন না। যেমন, ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যারা ভোটার হয়েছিলেন, তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে পরে ১৫ নভেম্বরের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সময়, ১৮ বছর পূর্ণ করা কয়েক লাখ তরুণ ভোটারকে তালিকায় যুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে, নির্বাচন কমিশন এখন আরও দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়, যাতে তরুণদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যায়।
এদিকে, তরুণদের পাশাপাশি, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায়ও তৎপর রয়েছে ইসি। বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিকদের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থার আইনি দিকগুলো সহজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ও নির্বাচনে যোগদান করার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি, এই কমিশন বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করেছে। ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দূর করা, প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি এবং পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা সহজ করা, এসব বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, “এগুলো সব নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের স্বদিচ্ছার ওপর, যাতে আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়।”











