নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে ২০২৩ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের “বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আদর্শ” সাযুজ্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। তারা বলছে, বাজেটের করনীতি থেকে শুরু করে খাতভিত্তিক বরাদ্দ পর্যন্ত নানা জায়গায় পুরনো বৈষম্যমূলক কাঠামোর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সঙ্গে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য গবেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাজেটটি জনকল্যাণমূলক হওয়ার কথা থাকলেও তা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অধিক করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৬ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করহার বেশি, কিন্তু ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়ের করদাতাদের ওপর তুলনামূলকভাবে কম চাপ দেওয়া হয়েছে—যা সিপিডির মতে, সুস্পষ্ট বৈষম্য।
সিপিডি আরও জানিয়েছে, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি বিলম্বিতভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত বাস্তবিক অর্থে অর্থহীন। তারা এটিকে ন্যূনতম সুবিধা দেওয়ার ভান হিসেবেই দেখছে।
এছাড়া, কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে অনৈতিক উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “একদিকে সরকার আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে এই খাতেই বাড়ানো হয়েছে শুল্ক—যা স্পষ্টত মধ্যবিত্তের বিরুদ্ধে যায়।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এখনও যথাক্রমে জিডিপির ২% ও ১%-এর নিচে রয়েছে, যা উন্নয়নের জন্য অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে সিপিডি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাস্তব উপকারভোগীদের বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে তারা।
মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নেও বিলম্ব ও ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিপিডি, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চাপ সৃষ্টি করবে বলে তাদের মত।
সামগ্রিকভাবে সিপিডি মনে করে, এবারের বাজেট বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অর্থ উপদেষ্টাকে বাজেট পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে।











