নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য বাড়ছে— এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সদ্য প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২২.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮.৭ শতাংশ। একই সময়ে অতিদারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণের হার দ্বিগুণ হয়ে ৯.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, ফলে নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ অতিদারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন।
বিশ্বব্যাংক জানায়, মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক খাতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৪ শতাংশ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন এবং প্রকৃত মজুরি টানা ৪০ মাস ধরে কমছে। স্বল্পদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি কমেছে ২ শতাংশ, আর উচ্চদক্ষদের ০.৫ শতাংশ। এতে ৬০ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে খরচ চালাচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২২–২৩ অর্থবছরের ৫.৮ শতাংশ ছিল। বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নীতিগত দুর্বলতাই এর মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় ২৪.১%, মূলধনী পণ্যের আমদানি ১২% এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৭.৩%— যা গত তিন দশকে সর্বনিম্ন।
সুযোগের দিক থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক রফতানি কিছুটা স্থিতিশীলতা আনছে। চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে ১.১ বিলিয়ন ডলারে, এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারে বিলম্ব, এবং নীতিগত অস্থিরতাকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.৪%, যা উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য অপর্যাপ্ত। সরকার ঋণ বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপির ৩৭.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যার মধ্যে বিদেশি ঋণ ১৪.১৬ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, প্রয়োজনীয় সাহসী সংস্কার— যেমন আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, রাজস্ব আহরণ দক্ষতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্য সহজীকরণ— বাস্তবায়িত হলে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।











