নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর নগদ প্রণোদনা ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সহজ ও ঝামেলাবিহীন করতে নানা প্রশাসনিক সংস্কার আনা হয়েছে। প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যা তাদের মধ্যে সম্মানবোধ ও উৎসাহ তৈরি করেছে।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা একটি রেকর্ড। বছরের অন্যান্য মাসগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জুন মাসেও এসেছে ২৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুন মাসের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
এই ঊর্ধ্বগতি কেবল সংখ্যার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাবও সুস্পষ্ট। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমছে, আমদানি ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে এবং বিনিময় হারও স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার চালু করেছে ‘ক্রলিং পেগ’ এক্সচেঞ্জ রেট ব্যবস্থা, যার ফলে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের মধ্যকার হারের ব্যবধান কমে এসেছে। এতে করে হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকিং চ্যানেল দিয়ে টাকা পাঠানো আরও লাভজনক হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেক প্রবাসীর মতে, আগের তুলনায় প্রক্রিয়াটি এখন অনেক সহজ, এবং হুন্ডি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় সবাই বৈধ পথেই অর্থ পাঠাতে আগ্রহী। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হওয়া ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’ও একটি বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আরামদায়ক পরিবেশ, নামাজের জায়গা, শিশু পরিচর্যার সুবিধাসহ নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রতিমাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য যেমন আশার আলো, তেমনি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের একটি বড় সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এই অগ্রগতি ধরে রাখতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থাগুলো দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ এবং রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রক্রিয়ায় আরও উদ্ভাবনী ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।











