নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করেছিল, যা দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। একই বছরে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়।
জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপির বর্জন
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে, এই নির্বাচন বিএনপি ও কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দলের বর্জনের কারণে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশন ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির তথ্য ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে অসঙ্গতি ছিল। বিরোধী দলের অনুপস্থিতি, অনিয়ম এবং একতরফা নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
২০২৪ সালের মে থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে দেশের প্রায় ৪৬০টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালিত হলেও, সহিংসতা এবং অনিয়মের কারণে ওই নির্বাচনও বিতর্কিত হয়। বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন বর্জন করে, যার ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন
এছাড়া, মার্চ মাসে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও কুমিল্লার মেয়র পদে উপনির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
ইসি পুনর্গঠন এবং সংস্কার কমিশন গঠন
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনি সংস্কার প্রবর্তনের জন্য দুটি কমিশন গঠন করা হয়। একটি হলো ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং অন্যটি ড. তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এই কমিশনগুলো বর্তমানে প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
কাজী হাবিবুল আউয়ালের পদত্যাগ
২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও তার চার সহকারী কমিশনার পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শুরু করা হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনটি বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়ে, বিশেষ করে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়ম রোধে ব্যর্থতার জন্য।
নতুন কমিশনের নেতৃত্বে ইসি পুনর্গঠন
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাছির উদ্দিনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। ২৪ নভেম্বর, নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। তার নেতৃত্বে কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে, নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।











