নিজস্ব প্রতিবেদক:
নবাবখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র মারা গেছেন। রোববার (৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রবীর মিত্র সনাতন ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তার নাম রাখা হয়েছিল হাসান ইমাম। তবে এই নামে তিনি পরিচিতি পাননি এবং আমৃত্যু প্রবীর মিত্র হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, প্রবীর মিত্রের দাফন নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন ছিল। এই বিষয়ে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর জানিয়ে ছিলেন, “প্রবীর মিত্র ভাই মুসলমান ছিলেন, তাই তার জানাজা ও দাফন ইসলাম ধর্মমতে হবে।”
প্রবীর মিত্রের ছেলে মিঠুন মিত্র জানান, “সোমবার বাদ যোহর এফডিসিতে তার প্রথম জানাজা হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে চ্যানেল আইতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।”
প্রসঙ্গত, ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
১৯৬৯ সালে প্রয়াত এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম প্রবীর মিত্র ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। যদিও চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রবীর মিত্র ‘নায়ক’ হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করেও তিনি পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা।
‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’সহ চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।










