বিদ্যুৎ খাতে লোকসান কমাতে সিস্টেম লস কমানোরে উদ্যোগ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণ ব্যয় ও সিস্টেম লস কমিয়ে তাদের লোকসান ঠেকানোর চেষ্টা করছে। গত কয়েক বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একাধিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা মূলত জ্বালানির উচ্চ ব্যয় এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিই লোকসান করেছে। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরে পাঁচটি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে তিনটি কোম্পানি লাভে ছিল।

বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডিপিডিসি ও ডেসকোর পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ২০২১-২২ অর্থবছরে ডিপিডিসি মুনাফা করলেও পরবর্তী অর্থবছরে কোম্পানিটি বড় লোকসানে পড়েছিল। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানো এবং সিস্টেম লস কমিয়ে আনার কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের লোকসান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইভাবে, ডেসকোও লোকসান কমাতে কিছু সফলতা অর্জন করেছে, তবে তাদেরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বর্তমানে ইউনিটপ্রতি ১১ টাকার বেশি হলেও, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে পাইকারি মূল্য ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। দাম বাড়ানোর পরও বিতরণ পর্যায়ে লোকসান কমানো সম্ভব হয়নি। এর কারণ হচ্ছে, পাইকারি দামের তুলনায় খুচরা দামে দাম বাড়ানো হয়নি যথেষ্ট।

এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর লোকসান ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তাদের লোকসান ছিল ৫২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে ২ হাজার ৭২৮ কোটি ১৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নশীল পরিস্থিতি এবং সরকারের দিকনির্দেশনায় বিতরণ কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানো এবং সিস্টেম লস হ্রাস করার দিকে মনোযোগী হয়েছে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে, কোম্পানিগুলোর লোকসান থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিক্রি করার সময় কম দামে বিক্রির কারণে কোম্পানিগুলোর লোকসান হচ্ছে। তবে, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তাই লোকসান কমাতে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানো এবং সিস্টেম লস কমানোর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।