নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্ব নিরসনে ‘জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, শহীদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মা—এই তিন পক্ষের মধ্যে এককালীন অনুদান এবং মাসিক ভাতা সমান তিন ভাগে বণ্টন করতে হবে। একাধিক সন্তান বা স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে অংশটি সমানভাবে ভাগ হবে। কোনো পক্ষ অবর্তমানে সেই অংশ অন্যদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সহায়তা বিতরণে ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইনের অনুসরণ করা হলেও তাতে শহীদ পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, যার ফলে সহায়তা বিতরণে বিলম্ব হচ্ছিল। এসব সমস্যার নিরসনেই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করল।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দ্বন্দ্বের কারণে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার সালিশ করতে হচ্ছিল, এমনকি গেজেটপ্রাপ্ত ৮৪৪ জন শহীদের মধ্যে আটজনের গেজেটও বাতিল করতে হয়েছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, জুলাই শহীদের পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। শহীদ স্বামী বা স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করলে তার অনুদান ও ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। আর যদি শহীদ জীবিত থাকাকালীন এককালীন সহায়তা না পান, তাহলে মৃত্যুর পরে তার পরিবার এটি পাবে এবং তিনভাগে ভাগ হবে।
জুলাই যোদ্ধারা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুবরণ করলে তাদের ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের পরিবারও শহীদ পরিবার হিসেবে সকল সুবিধা পাবে।
পুনর্বাসন কার্যক্রমে জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ট্রেনিং—যেমন আইটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, কৃষি, পোশাকশিল্প, সৌন্দর্যচর্চা ও আত্মকর্মসংস্থান—সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও প্রদান করা হবে।
বিধিমালায় দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশ বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়েছে। সালিশে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন এবং তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।











