নিজস্ব প্রতিবেদক:
মোংলা বন্দর এখন নৌ, সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে একটি ত্রিমাত্রিক আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরে পরিণত হয়েছে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল এবং ভুটান থেকে ট্রানজিট পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে সড়কপথে মাত্র ৩ ঘণ্টায় মোংলা বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যা বন্দরটির কার্যক্রমকে আরো দ্রুত এবং কার্যকর করেছে।
বর্তমানে মোংলা বন্দরে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা ওয়ানস্টপ সার্ভিস এবং উন্নত সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। বন্দরটির জেটি, মুরিং বয়া এবং অ্যাংকোরেজে একসঙ্গে ৪৭টি জাহাজ নোঙর করতে সক্ষম হওয়ায় পণ্য পরিবহন আরো সহজ হয়েছে। মোংলা বন্দরের মাধ্যমে খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, মোটরগাড়ি, মেশিনারিজ, তেল, কয়লা, গম, ভুট্টা, এলপিজি গ্যাসসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি এবং মাছ, চিংড়ি, পাট, পাটজাত দ্রব্য, গার্মেন্টস পণ্য, কাঁকড়া, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা ক্রমাগত বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ২৯ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। বন্দরটির আধুনিক যন্ত্রপাতি, নিয়মিত ড্রেজিং এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে একাধিক জাহাজ একই সময়ে বন্দরে হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, “মোংলা বন্দর বর্তমানে সড়ক, নৌ ও রেলপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরে পরিণত হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। নতুন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন হলে বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে, এবং দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহকে ত্বরান্বিত করবে।”











