অনলাইন ডেস্ক:
উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ২ হাজার কিলোগ্রাম (২ টন) উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়া ধারণা করছে। যা বিপুল সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট। আজ গতকাল (২৫ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন বলে এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা, যেমন ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (এফএএস), এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের অনুমানের ভিত্তিতে এই সংখ্যা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে ৯০ শতাংশের বেশি বিশুদ্ধতায় প্রায় ২ হাজার কিলোগ্রাম উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করছে। মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং সতর্ক করে বলেন, “এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম সেন্ট্রিফিউজ চারটি স্থানে কাজ করছে। একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য মাত্র ৫ থেকে ৬ কেজি প্লুটোনিয়ামই যথেষ্ট।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২ হাজার কেজি ইউরেনিয়াম দিয়ে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪৭টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান হলো উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (ইউরেনিয়াম-২৩৫)।
এটিকে পারমাণবিক চুল্লিতে দহনের মাধ্যমে প্লুটোনিয়ামেও রূপান্তরিত করা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার কাছে ‘উল্লেখযোগ্য’ পরিমাণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকার কথা বলে আসছে।
একীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং জোর দিয়ে বলেন, “উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উন্নয়ন বন্ধ করা এখন জরুরি।” তবে তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এটি থামানো সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এর একমাত্র সমাধান হলো পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি শীর্ষ বৈঠক। এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তিনি আলোচনায় রাজি আছেন, তবে শর্ত হলো তিনি তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার বজায় রাখতে পারবেন।
২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের নিষিদ্ধ অস্ত্র কর্মসূচির জন্য জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। সিউলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, উত্তর কোরিয়ার একাধিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র আছে, যার মধ্যে ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক স্থাপনাটিও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং, যিনি গত জুনে দায়িত্ব নেন, তার পূর্বসূরির তুলনায় উত্তর কোরিয়ার প্রতি আরও কট্টর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি উত্তরের সঙ্গে উত্তেজনার ‘দুষ্টচক্র’ ভাঙার অঙ্গীকারও করেছেন।











