নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, হত্যা ও গুমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রবিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-তে কৃষি সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ গুম এবং ২ হাজার যুবক খুন হয়েছেন। তিনি জানান, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলছে।’
নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দুটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা এবং ঐকমত্যের ওপর।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার গুজব নাকচ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘দল নিষিদ্ধ করার কোনো ইচ্ছা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশের পরিবর্তে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।’
এ সময় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও কথা বলেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ চলছে। তিনি সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
শফিকুল আলম শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করার জন্য ভুল উৎপাদন তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত বছর অতিরিক্ত চাল উৎপাদনের দাবি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এক কোটি ২৫ লাখ টন চাল আমদানি করেছে।
আলম আরও বলেন, “অতীতে মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপি পরিসংখ্যান হেরফের করে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছিল।” তবে এখন সঠিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে নাগরিকরা একটি টেকসই অর্থনীতি এবং কৃষির সুবিধা পাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সরকারি খাতের বেতন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। তিনি জানান, ‘মহার্ঘ ভাতা এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ।’
শফিকুল আলম বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণের জন্য একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দিকে সরকার মনোনিবেশ করছে।










