পিনোশের দুই আইনজীবীকে মানবাধিকার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী করছেন চিলির প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক:

চিলির ডানপন্থী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, সাবেক স্বৈরশাসক অগুস্তো পিনোশের দুই সাবেক আইনজীবীকে তিনি প্রতিরক্ষা ও মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেবেন। মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা মন্ত্রিত্ব সামলাবেন।

 

চিলি থেকে এএফপি জানায়, পিনোশের বিদায়ের পর চিলিতে কাস্ত আগামী ১১ মার্চ প্রথম চরম ডানপন্থী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নেবেন। পিনোশের নৃশংস শাসন দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গভীর ক্ষত রেখে গেছে।

 

১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পিনোশের শাসনামলে তিন হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন; আরও কয়েক দশক হাজার মানুষকে নির্যাতন করা হয় বা কারাবন্দী করা হয়।

 

পিনোশের প্রশংসকারী কাস্ত, যিনি গত ডিসেম্বর ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, ‘কঠিন সময়ের জন্য এক শক্তিশালী দল’-এর ঘোষণা দেন। এ দলে ৬৮ বছর বয়সী ফের্নান্দো বারোসকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ৫৩ বছর বয়সী ফের্নান্দো রাবাতকে বিচার ও মানবাধিকারমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

 

বারোস ও রাবাত উভয়েই পিনোশের দলের সদস্য ছিলেন।

 

১৯৯৮ সালে স্পেনের আদালতের অনুরোধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পিনোশেকে বিচারের জন্য প্রত্যর্পণের দাবিতে লন্ডনে আটক করা হলে তার পক্ষে সাফাই পরিচালনা করেন বারোস।

 

রাবাত সরকারি তহবিল আত্মসাতের একটি মামলায় পিনোশের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

২০০৬ সালে ৯১ বছর বয়সে পিনোশের মৃত্যু হয়; তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।

 

সান্তিয়াগোতে মন্ত্রিসভা ঘোষণা অনুষ্ঠানে কাস্ত বলেন, ‘এই মন্ত্রিসভা কোটা, হিসাব-নিকাশ বা চাপের ফল নয়। এটি চিলিকে সবসময় সবার আগে রাখার গভীর বিশ্বাস ও অভিন্ন দায়বদ্ধতার ফসল।’

 

অপরাধ ও অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের জোয়ারে নির্বাচিত হন কাস্ত।

 

জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশের বেশি চিলিবাসীর মতে নিরাপত্তাই দেশের প্রধান সমস্যা। গর্ভপাতসহ বহু সামাজিক ইস্যুতে অধিকাংশ চিলিবাসীর তুলনায় ডানদিকে অবস্থান নিয়েও কাস্ত বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন।

 

তবে নির্বাচনের পরপরই তিনি ‘জাতীয় ঐক্য’-র সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

 

ডিসেম্বরে বিজয় নিশ্চিত করার কয়েক দিনের মধ্যেই কাস্ত বলেন, ‘এটি কোনো এক ব্যক্তি বা এক দলের সরকার নয়। মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য গড়তে এটি আরও বিস্তৃত হবে।’

 

চিলির ভোটাররা প্রায়ই চরম বাম ও ডান বিকল্পের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য হলেও দেশটি বাস্তবে মধ্যপন্থী অবস্থান ধরে রেখেছে।

 

২০১০ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে চিলিতে বাম ও ডানপন্থী সরকারের মধ্যে পালাবদল ঘটেছে।

 

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কাস্তের জার্মানে জন্মগ্রহণকারী বাবা ছিলেন অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি পার্টির সদস্য এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে একজন সৈনিক।

 

তবে কাস্তের দাবি, তার বাবা বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন এবং নাৎসিবাদ সমর্থন করতেন না।

 

কাস্তের বিজয় লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থার দিকে ঝোঁককে নিশ্চিত করেছে। এর আগে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও ই

কুয়েডরে ডানপন্থীদের জয় দেখা গেছে।