অনলাইন ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী এক সময় ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং শীতকালে অতিথি পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভয়ারণ্য। কিন্তু বর্তমানে নদীটি ভয়াবহ দখল, দূষণ এবং কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে পাখিদের আগমনেও ভাটা পড়েছে। এক সময় যেখানে অতিথি পাখির কিচির-মিচির শব্দে নদীটি মুখরিত থাকত, সেখানে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত নরসুন্দা নদী প্রতি বছর শীতকালীন অতিথি পাখিদের আকর্ষণ করত, বিশেষ করে সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, সিনচিয়াং এবং ভারতের মতো শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে হাজার হাজার পাখি এখানে আসত। তবে এখন কচুরিপানার কারণে এই পাখিরা নদীতে অবাধে সাঁতার কাটতে পারে না এবং শুধুমাত্র গাছের ওপর বা আকাশে উড়াউড়ি করে সময় কাটায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল ইসলাম জুয়েল জানান, “নরসুন্দা নদী এক সময় অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত থাকত, কিন্তু এখন কচুরিপানার ফাঁকে তারা পানি খুঁজে পায় না। নদীটি দূষণ এবং দখলের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে।” তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা নদীটির পুনঃরুদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নেয়।
বাপার টিম সম্প্রতি নরসুন্দা নদীর উৎসমুখ থেকে পতনমুখ পর্যন্ত ৬৭ কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে নদীটির প্রায় প্রতিটি ফুটই দখল হয়েছে। তারা বলেন, “এমন বিপুল পরিমাণ দূষণ এবং দখল খুব বেশি নদীতে দেখা যায়নি। সুইচ গেট, বাঁধ এবং ভূমিরূপের পরিবর্তন করে নদীটিকে চিহ্নিত করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তারা আরও বলেন, যদি নরসুন্দা নদীর দুই তীর পরিচ্ছন্ন করে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করা যায়, তবে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই নদীটির পুনঃরুদ্ধারের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের পরিবেশকে আগের মতো সুন্দর এবং বৈচিত্র্যময় করা সম্ভব হবে, যেখানে শীতকালে অতিথি পাখির আগমন আবারও সবার মনমুগ্ধকর হবে।










