জেলা প্রতিনিধি :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনীর মহিপালে ২০০৬ সালে নির্মিত ফেনী ট্রমা সেন্টার দীর্ঘ ২০ বছরেও পূর্ণ কার্যক্রমে চালু হয়নি। ২০ শয্যার এই সেন্টারটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি এবং জনবলের অভাবে সেন্টারের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।
২০০২ সালে ফেনী ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০০৬ সালের জুলাইয়ে শেষ হয়। একই বছরের অক্টোবরে বহির্বিভাগে সীমিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম কখনোই শুরু করা যায়নি। সেন্টারে রয়েছে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, এবং প্যাথলজি ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এগুলো একবারের জন্যও ব্যবহার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতিগুলো অযত্নে পড়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার পথে।
বর্তমানে ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ বহির্বিভাগে। এখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন রোগী সাধারণ রোগের জন্য চিকিৎসা নিতে আসেন। গুরুতর আহত রোগীদের শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের ফেনী সদর হাসপাতাল বা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মহাসড়কে প্রতিদিন বহু দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু এই সেন্টারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক বা সুবিধা না থাকায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হয় না। মহাসড়ক থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে রোগী নিতে যানজটের কারণে অতিরিক্ত সময় লাগে, যা অনেক সময় গুরুতর রোগীর জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জনবল ও অবকাঠামো-সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো সেন্টারটি পূর্ণ কার্যক্রমে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মহাসড়কের দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি সেবা দিতে ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।











