নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে একাধিক বিল পাসকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল। বিল পাসের পরই তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে, যা চলতি অধিবেশনে তাদের আরেকটি নাটকীয় প্রতিবাদ হিসেবে সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। এজন্য এখন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।” এরপর বিরোধীদলীয় জোটের সদস্যরা একে একে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
এর আগে একই দিনে বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটেও তারা ওয়াকআউট করেন। সংসদ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে একই অধিবেশনে তিনবার ওয়াকআউট করল জামায়াতসহ বিরোধীদলগুলো।
বিরোধীদলীয় সদস্যরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়েছে। সময় স্বল্পতা এবং বিতর্কের সুযোগ সীমিত থাকার বিষয়েও তারা আপত্তি তোলেন। সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ৯৮টি হুবহু, ১৫টি সংশোধন করে এবং ১৬টি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিল আকারে আনার সুপারিশ করেছিল বলেও জানা যায়।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধীদলের ওয়াকআউট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আইন প্রণয়নের ফার্স্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নিয়েছেন। কেউ কেউ সমর্থনও দিয়েছেন। তাহলে শেষ মুহূর্তে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না, সেটি ভাবার বিষয়।” তিনি বিরোধীদলীয় সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, “মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অধিবেশনে অংশ নেবেন।”
সংসদে ওই দিন স্থানীয় সরকার সংশোধন বিলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় সংক্রান্ত বিলও ছিল। এসব বিল নিয়েই বিরোধীদল তীব্র আপত্তি জানায়।
পরে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে জামায়াতসহ বিরোধীদল আবার সংসদ অধিবেশনে ফিরে আসে। তবে ধারাবাহিকভাবে ওয়াকআউটের ঘটনা সংসদের ভেতরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











