ইসলামাবাদ সংলাপের করুণ পরিণতি, বিশ্ব কি তবে যুদ্ধের পথে

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শান্তি সংলাপ শেষ পর্যন্ত কোনো আশার আলো দেখাতে পারল না। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক আলোচনাটি কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেছে। আলোচনার শুরু থেকেই দুই পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল, বাস্তবে ঠিক সেটিই ঘটেছে। কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে দুই দেশ একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সংকেত।

হরমুজ প্রণালি ও সামরিক উত্তাপ: বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আলোচনার অন্যতম বড় কাঁটা ছিল ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি প্রায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে—ওয়াশিংটন এখন কূটনীতির চেয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষে এখন পুনরায় রক্তক্ষয়ী হামলার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

ব্যর্থতার নেপথ্যে পরমাণু ইস্যু: ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি। যদিও ইরান সবসময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে এই ব্যর্থতা দেশটিকে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক রস হ্যারিসন। আপাতত এই সংলাপটি কূটনীতির ইতিহাসের এক বড় পরাজয় হিসেবেই গণ্য হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে ওঠার শঙ্কায় রয়েছে।