ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে আসছেন বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক পদে ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এবার রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়ার পরই এই নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতাকে কূটনৈতিক দায়িত্বে আনার বিষয়টি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

দীনেশ ত্রিবেদী রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। কংগ্রেস, জনতা দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পর ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জন্মসূত্রে গুজরাটি হলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি সাবলীলভাবে বাংলা বলতে পারেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা মিশনে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পাঠানো ভারতের কূটনৈতিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র নীতির সাধারণ ধারা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে সাধারণত ভারতীয় ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যতিক্রমীভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই সম্পর্ককে নতুনভাবে সাজানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তির নিয়োগ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।