পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল, মমতার দুর্গ ভেঙে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

অনলাইন ডেস্ক :

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি, একই সঙ্গে নিজের আসনেও পরাজিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (৪ মে) ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

২৯৪ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেরিয়ে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় বা এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সবচেয়ে আলোচিত ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এতে মমতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানেও বড় ধাক্কা লেগেছে।

 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এমন দৃশ্য নতুন নয়। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, তখন পরাজিত হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রায় দেড় দশক পর আবারও ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

 

এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই ভবানীপুর আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। প্রথমদিকে এগিয়ে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোট গণনার বিভিন্ন ধাপে নাটকীয় পালাবদল দেখা গেছে, যা শেষ পর্যন্ত বিজেপির পক্ষেই গেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এই ফলাফল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী মনোভাব, সাংগঠনিক অসন্তোষ এবং ধর্মীয় মেরুকরণ বিজেপির এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাহুল ভার্মা বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছিল। বিজেপি পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।”

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবীণ রাইয়ের মতে, তৃণমূল নতুন কোনো বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোটারদের একাংশের কাছে দলটির আচরণ শত্রুভাবাপন্ন মনে হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি।”

 

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এসব অভিযোগ একে অপরের ওপর চাপিয়েছে দুই পক্ষই।

 

ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ভয় পাবেন না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।” অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।”

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফল শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতিতে মমতার ভূমিকা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।