আজ বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ঢাকায় থেকে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে এই সফরকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন সরকার গঠনের পর এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে তিনি ভারত সফর করেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই আঞ্চলিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একই ধারাবাহিকতায় গত ২০ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও চীন সফর করেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে জ্বালানি সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চীনে কাঁঠাল রপ্তানি এবং চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চীনা শিল্প স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে চীনের সমর্থন চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মিয়ানমার পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনও এই সফরে নিজেদের কিছু অগ্রাধিকার তুলে ধরতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানো এবং গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের মতো উদ্যোগে বাংলাদেশকে আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সফরকালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধের মধ্যে সেই সফর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, “এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি সুযোগ।” তারা বলছেন, বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।