৫ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের অনুমোদন দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ মোট ছয়টি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

 

আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ২৪তম সিসিজিপি সভায় এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকের এজেন্ডায় পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট সাতটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি নিয়মিত প্রস্তাব এবং একটি বিবিধ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার করে নেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এলএনজি আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন পেয়েছে।

 

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের স্বল্পমেয়াদি চাহিদা পূরণের জন্য সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে সরাসরি দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করবে। এ ক্রয়ের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে (জেকেএম+০.১২৫) মার্কিন ডলার/এমএমবিটিইউ।

 

এছাড়া বিবিধ এজেন্ডা-১ এর আওতায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে ৩ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

আগামী জুনের শেষভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরুর মধ্যে সরবরাহযোগ্য এই তিন কার্গোর মধ্যে একটি সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এবং দুটি সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)।

 

বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা অবকাঠামো প্রস্তাবও (আংশিক) অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আওতায় খাদ্য অধিদপ্তর ই-জিপি পদ্ধতিতে ৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৫০ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১ কোটি নতুন কাট-সাইজ বি-টুইল পাটের বস্তা ক্রয় করবে।

 

শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বাস্তবায়িত ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের একটি দরপত্রও অনুমোদন করা হয়।

 

ওয়ার্ক প্যাকেজ (ডব্লিউডি-৯সি-বিএসএমএসএন-বেজা)-এর আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খাল উন্নয়ন, খাল লাইনিং, ঘাট ও হাঁটার পথ নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজের জন্য ১০৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার দরপত্রে মনিকো লিমিটেড নির্বাচিত হয়েছে।

 

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে দুটি পৃথক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘সহনশীল অবকাঠামোর মাধ্যমে অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাস (রিভার) (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়- নীলফামারী জেলায়: ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে যৌথভাবে বিডিই লিমিটেড ও ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। হবিগঞ্জ জেলায়: ২৭টি সরকারি প্রধামিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে যৌথভাবে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং এম/এস মমিনুল হক। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।