অন্তর্বর্তী সরকার খুনিদের মিছিল বরদাশত করবে না: প্রেস সেক্রেটারি

অনলাইন ডেস্ক:

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই খুনিদের মিছিল বরদাশত করবে না। গতকাল বুধবার তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন।

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে এবং জনগণ খুনিদের মিছিল সহ্য করবে না।” শফিকুল আলম আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো আইনসঙ্গত প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ বন্ধ বা নিষিদ্ধ করা হয়নি। সরকার সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

প্রেস সেক্রেটারি তার স্ট্যাটাসে জানিয়ে দেন, গত পাঁচ মাসে ঢাকায় অন্তত ১৩৬টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু বিক্ষোভ যানজট সৃষ্টি করলেও সরকার কখনোই বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেনি। তবে তিনি প্রশ্ন করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে কি আমরা বিক্ষোভের অনুমতি দেব?”

শফিকুল আলম বলেন, “জুলাই ও আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে, যেখানে কিশোর শিক্ষার্থীসহ ছোট শিশুদেরও হত্যা করা হয়।” তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ২০২৩ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং গণহত্যা, হত্যা ও তাণ্ডবের জন্য দায়ী করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, “নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, হাসিনা সরাসরি হত্যাকা- ও গুমের আদেশ দিয়েছেন তার ১৬ বছরের শাসনকালে। তার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার লুটপাট হয়েছে এবং ৩,৫০০ জন গুম এবং ৩,০০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।”

তিনি সতর্ক করে দেন, “আওয়ামী লীগ যদি তাদের এই গণহত্যা, হত্যাকা- ও দুর্নীতির জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চায় এবং অপরাধী নেতাকর্মীরা বিচারের আওতায় না আসে, তবে তারা কোনোভাবেই বিক্ষোভের অনুমতি পাবে না।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশ খুনি ও দুর্নীতিবাজদের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ দেয় না। কোনো দেশ বিচার ছাড়া পুনর্গঠন অনুমতি দেয় না।”

অন্তর্বর্তী সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, “তারা যদি বেআইনি বিক্ষোভের চেষ্টা করে, তবে তারা আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হবে। সরকার জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে এবং খুনিদের মিছিল কখনোই বরদাশত করা হবে না।”