জেলা প্রতিনিধি :
ফেনীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফিরলেও, বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বিশেষ করে সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া এবং পরশুরাম উপজেলার নদীগুলো থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
আগস্টে সরকারের পতনের পর থেকে ফেনীর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন, যার ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে, অনেকের মতে, ‘আওয়ামী লীগ আউট, বিএনপি ইন’ হলেও এসব নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দখলদারীতেও জড়িয়ে পড়েছেন।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী ইজারাদাররা পালিয়ে যাওয়ার পর, বিএনপির নেতাকর্মীরা বালুমহাল দখল করছেন এবং উত্তোলিত বালু লুট করছেন। সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া এবং পরশুরাম উপজেলার নদী থেকে বালু উত্তোলনের এ অবস্থা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সরকারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও, প্রভাবশালী মহল এসব নিয়ম অমান্য করে বালু উত্তোলন করছে। ড্রেজার, ব্লাকহেড ও ট্রলার দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদী-খালগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে, হাজার হাজার একর কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে, এবং বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এরই মধ্যে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ২২ সেপ্টেম্বর ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। এছাড়াও ১ ডিসেম্বর সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়ায় একটি টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ৩৭টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার মালামাল ধ্বংস করা হয়।
জানা গেছে, গত ৫ বছরে ফেনী জেলার আটটি বালুমহালের মধ্যে পাঁচটি ইজারা দেওয়া হলেও তিনটির ইজারাদার পাওয়া যায়নি। সোনাগাজী উপজেলা দুইটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক রিপন এবং ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার বালুমহালগুলো ইজারা নিয়েছেন অন্য নেতারা।
এছাড়াও, মুহুরী প্রকল্প এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের দুইটি গ্রুপের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন, স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই এসব বালু উত্তোলনের কাজ চলছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তারা তৎপর রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে অভিযান আরও কঠোর করা হবে। তিনি বলেন, “বালুখেকোরা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেনী নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার জানান, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও এর আশেপাশের এলাকার ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের উত্তোলন বন্ধ করার জন্য স্থানীয় জনগণের সচেতনতা প্রয়োজন।”
অবশ্যই, সরকারি উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।











