অনলাইন ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন মইজেস হেনরিকস। দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার পর এবার জন্মভূমি পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে নামতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপীয় সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্বে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চারটি টেস্টসহ মোট ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন হেনরিকস। তবে তার নতুন এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্যারিয়ারের আরেকটি ধাপ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার এক প্রচেষ্টাও। হেনরিকস মনে করেন, সহযোগী সদস্য দেশগুলোর উন্নতি ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্তুগালে জন্ম নেওয়া হেনরিকস ছোটবেলাতেই পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বিকাশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবশেষ খেলেছিলেন ২০২১ সালে। আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার তিন বছর পার হলে একজন ক্রিকেটার সহযোগী সদস্য দেশের হয়ে খেলতে পারেন। সেই নিয়মেই এখন পর্তুগালের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে হেনরিকস বলেছেন, নিজের পর্তুগিজ পরিচয়কে প্রতিনিধিত্ব করা তার জন্য গর্বের হলেও, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ক্রিকেটকে আরও বৈশ্বিক করে তোলা। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বিকাশের যে সুযোগ রয়েছে, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু আমার পর্তুগিজ পরিচয়ের বিষয় নয়, বরং খেলাটিকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপার।” তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা আরও ১০ বা ২০টি দেশে ক্রিকেটের মান ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারি, তাহলে এমন এক বিশ্বকাপ দেখা যাবে, যা পুরো বিশ্বকে থামিয়ে দেবে- শুধু কয়েকটি দেশ বা উপমহাদেশকে নয়।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী সদস্য দেশগুলোর উন্নতি চোখে পড়ার মতো। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০টি দল অংশ নেয় এবং গ্রুপ পর্বেই বেশ কিছু চমক দেখা যায়। নেপাল ইংল্যান্ডকে প্রায় হারিয়েই ফেলেছিল, নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে হারানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়, আর ইতালিও ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে। সব মিলিয়ে, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হেনরিকসের অংশগ্রহণ শুধু একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সহযোগী সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বিকাশের দিক থেকেও এটি হতে পারে বড় অনুপ্রেরণা। জন্মভূমির জার্সিতে নতুন যাত্রায় নামতে যাওয়া এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এখন দেখছেন আরও বড় এক স্বপ্ন- ক্রিকেটকে সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।











