শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বৈষম্য চাই না, বিভিন্ন কারণে তা হচ্ছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বললেন, আমরাও চাই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বৈষম্য না থাকুক। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে সচেষ্ট আছি।

 

তাঁর ভাষায়, “সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর প্রভাব বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় পড়ছে।”

 

এছাড়াও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতিকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট জমানায় কী এর চেয়ে ভালো ছিলেন? ফ্যাসিস্ট জমানার ভুল নীতির কারণেই বিদ্যুৎ খাতের সংকট তৈরি হয়েছে।”

 

বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুন মাসে অনেক গ্রাহকের বিল বৃদ্ধির পেছনে শুধু নতুন ট্যারিফ নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও একটি বড় কারণ। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিলও তুলনামূলক বেশি আসে। তবে কিছু ক্ষেত্রে করণিক ভুল পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ না পড়ে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রি-পেইড ও স্মার্ট মিটার সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

 

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো গ্রাহকের সন্দেহ বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃযাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, বিদ্যুৎ বিল বাড়ার প্রধান কারণ মিটারের ত্রুটি নয়। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্রাহকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চতর স্ল্যাবে চলে যাওয়ার কারণে অনেকের বিল বেড়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে করণিক ভুলও পাওয়া গেছে। সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রতিকার দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে কখনো কখনো সমস্যায় পড়তে হয়।

 

যেসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃ যাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ সচিব।