নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের একাধিক গুদাম ও শেডে হাঁটুপানি জমে আমদানি করা কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে প্রায় প্রতি বর্ষাতেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদাম ও শেডে পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের দাবি, এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ধরনের ক্ষতির জন্য কার্যকর কোনো ক্ষতিপূরণও পান না তারা।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরও ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুই দিনে মোট ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
আমদানিকারক আল মামুন বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরের বিভিন্ন গুদামে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট হয়।” তিনি আরও বলেন, পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি বা ডেমারেজও গুনতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানিকারকেরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজনের অভিযোগ, “বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। বীমা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পান না।”
বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন গুদামে রাখা আমদানি পণ্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, “টানা বৃষ্টিতে কয়েকটি শেডে রাখা পণ্য পানিতে ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি জানান, বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।











