নিজস্ব প্রতিবেদক:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটাসহ অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার পর রংপুর মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হতে শুরু করেন।
এ সময় কয়েকজনের হাতে ছুরি, চাপাতি, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। একই জায়গায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আসা এক যুবদল কর্মী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গে সহমত ও সহমর্মিতা জানিয়ে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ওই রাজাকার, আলবদরদের জানিয়ে দিতে চাই, ওদের জায়গা একাত্তরে যেমন বাংলাদেশে হয়নি, ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং রংপুরবাসী তাদের বয়কট করেছে।”
এদিকে একই স্থানে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও ছাত্রশিবির বা তাদের কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেরোবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। রংপুর মহানগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা নেতা-কর্মীদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
প্রক্টর বলেন, “আমাদের বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা তাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে নিষেধ করেছি। ক্যাম্পাসে ছাত্র ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি জানান, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় অবস্থান করছে। আরেকটি পক্ষ লালবাগ এলাকা থেকে রওনা হয়েছিল। সেখানে পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষকে আলাদা জায়গায় রাখার মাধ্যমে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রক্টর। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে বেরোবির প্রধান ফটকে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এর মধ্যেই দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে।











