সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে সিলেটে ড্রোন স্কুল, মব সংস্কৃতি দমনের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জেলা প্রতিনিধি:

সীমান্তে নজরদারি জোরদার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সিলেটে ‘সীমান্ত স্কুল অব ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে সীমান্ত নজরদারিতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দেশে আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। দেশে মব সংস্কৃতি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধনের পর তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। পরে ড্রোন প্রদর্শনী ও একটি অপারেশনাল মহড়া পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

 

নতুন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লক্ষ্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক সরঞ্জাম পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরি করা। বিজিবি সূত্র জানায়, এর মাধ্যমে সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও বাড়বে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ফোর্স মোতায়েনেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের ড্রোন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিজিবিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের আভিযানিক প্রয়োগ সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার বিষয়েও তাঁকে জানানো হয়।

 

উদ্বোধনের পর প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ড্রোন পাইলটদের অংশগ্রহণে বিশেষ ‘ড্রোন ম্যানুভার’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা হয়। ড্রোনের মাধ্যমে বিজিবির সিক্সম্যান পেট্রোল টিমের আভিযানিক কার্যক্রম, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও আটকের কৌশল এবং পুশ-ইন প্রতিরোধে ড্রোনের ব্যবহার দেখানো হয়। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী বা অপরিচিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এন্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহারিক প্রয়োগও প্রদর্শন করা হয়।

 

মহড়ার শেষ পর্যায়ে বিজিবিতে সংযোজিত ম্যাভিক ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের সমন্বয়ে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করা হয়।

 

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ নজরদারি আরও জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এতে চোরাচালানসহ সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমে আসবে। চোরাচালান নিয়ন্ত্রণেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধেও আইনি পদক্ষেপ জোরদারের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মালখানা ও হাজতখানার পরিধিও বাড়ানো হবে।

 

সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশে মব সংস্কৃতির প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, অতীতে দেশে যে মবের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সজাগ রয়েছে এবং এটি কঠোর হাতে দমন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মব অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সালাউদ্দিন আহমেদের এটি প্রথম সরকারি সফরে সিলেট আগমন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর ও নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর।

 

সিলেট সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।