অনলাইন ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার পর তিনি বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেরালার হেমা কমিটির আদলে একটি কমিটি গঠনের দাবিও জানান। সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এত বছর পর কেন তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন এবং তার আবেদনের বর্তমান অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে ঋতাভরী বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে পরিস্থিতি তার জন্য একেবারেই ভিন্ন ছিল। তখন তিনি বয়সে কম, ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এবং নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। হয়রানির ঘটনাগুলোর সময় তিনি ভীত থাকতেন। তবে বর্তমানে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ়ভাবে কথা বলতে পারেন বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, এখন কেউ তার সঙ্গে অশোভন আচরণ বা যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে তিনি তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক অনুসারী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের তুলনায় এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ও অবস্থান—দুটিই তার অনেক বেশি শক্ত।
ঋতাভরী জানান, হয়রানির সঙ্গে সম্পর্কিত আপত্তিকর বার্তাগুলো তিনি বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে তিনি কারও বিরুদ্ধে বিচার করার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে চান না। তার মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোনো প্রয়োজন।
নিজের আবেদনের বর্তমান অবস্থান নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের কাছেও একই ধরনের আবেদন জানিয়েছেন এবং এবার সেটি আরও আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো একান্ত বৈঠক হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি কোন দিকে এগোয়, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নতুন কোনো অগ্রগতি হলে সবাইকে জানাবেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ট্যাগ করেছিলেন ঋতাভরী। পরে তাকে নবান্নে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে বৈঠকের পর পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছিল। ওই কমিটির হেমা কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরি এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে কাজ করার কথা ছিল।
প্রস্তাবিত কমিটির নেতৃত্বে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি থাকার কথা ছিল। এ ছাড়া পুলিশ, মনোবিজ্ঞানী ও আইনজীবীদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। ঋতাভরী অবশ্য ওই কমিটিতে চলচ্চিত্রশিল্পের কাউকে না রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তার সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের সময় চলচ্চিত্রশিল্পের দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও তুলেছিলেন ঋতাভরী। তবে প্রকাশ্যে তাদের নাম জানাননি তিনি।
২০০৯ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান ঋতাভরী চক্রবর্তী। পরে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ‘বহুরূপী’, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ও ‘ফাটাফাটি’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও লেখালেখিতেও যুক্ত রয়েছেন ঋতাভরী। ‘নেকেড’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র লিখেছেন ও প্রযোজনা করেছেন তিনি, যেখানে অভিনয় করেছেন কল্কি কোয়েচলিন। এ ছাড়া ২০১৭ সালে অনুষ্কা শর্মা অভিনীত ‘পরী’ সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।











