জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের খাবার বগিতে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্যান্টিন বয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে পুলিশ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মেহেদী হাসান চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন এটিএসআই খোকন ইসলাম এবং কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা, ফজলে রাব্বি ও আশিকুল রহমান। ঘটনার দিন তারা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের এক ৪২ বছর বয়সী নারী গত ৩০ আগস্ট ভুলক্রমে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি নাটোরে পৌঁছালে চলন্ত ট্রেনের খাবার বগিতে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য ওই নারীকে তার কাছে মাদক আছে এমন অভিযোগ তুলে খাবার বগিতে নিয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে যৌন হয়রানি করা হয় এবং অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে একই বগির ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে ট্রেনের যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন। পুলিশ ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করে সান্তাহার স্টেশনে পৌঁছালে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী সান্তাহার রেলওয়ে থানায় আবু বক্কর সিদ্দিক ও ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী দুই অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে মঙ্গলবার সান্তাহার রেলওয়ে থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী দাসের আদালতে হাজির করেন। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ভুক্তভোগী নারীকে তার ছেলের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যাটারিংয়ের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল আউয়াল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে পুলিশ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দিন বলেন, মামলায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন ওই চার পুলিশ সদস্য ট্রেনে দায়িত্বে থাকায় তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।











