নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের ডেগির চালা এলাকায় ‘মেট্রিক্স গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক প্রস্তুতকারক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ২টা ৪৪ মিনিটে ফকির মার্কেটের মেট্রিক্স গার্মেন্টসের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় কারখানার ভেতরে আটকে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৭০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ৩টার দিকে কারখানাটির ৮তলা ভবনের ৩য় তলায় প্রথম আগুনের লেপন শিখা দেখতে পান শ্রমিকেরা। মুহূর্তে ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে প্রথমে জয়দেবপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে কোনাবাড়ী স্টেশন থেকে ১টি, গাজীপুর ফায়ার স্টেশন থেকে ৩টি এবং রাজেন্দ্রপুর ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২টি ইউনিটসহ মোট ৯টি ইউনিট উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. হিরন মিয়া জানান, আমাদের প্রাথমিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুনের ব্যাপ্তি বড় হওয়ায় পার্শ্ববর্তী অন্যান্য স্টেশন থেকেও মোট ৯টি ইউনিট আনা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি এবং রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজে যোগ দেয়।
তিনি জানান, আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৭০ জনকে কারখানা থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও জানান, কারখানাটির আশপাশে পুকুর বা পানির কোনো উৎস নেই। পাশাপাশি কারখানাটিতে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।










