‘টাকা চাওয়া নিয়ে ঝগড়ার’ একপর্যায়ে বাবার মৃত্যু, ছেলে আটক

জেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার তিতাসে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই বাবার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ছেলেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

 

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত নুরুল ইসলাম শান্তি (৬৫) ইউসুফপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং অভিযুক্ত তার ছেলে মমিতুল ইসলাম রাজন (২৮)।

 

পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এদিন দুপুরে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলাম শান্তির সঙ্গে তার ছোট ছেলে মমিতুল ইসলাম রাজনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হলে নুরুল ইসলাম শান্তি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রাজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নুরুল ইসলাম শান্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেই সঙ্গে রাজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

নিহতের বড় ছেলে মহিমুল ইসলাম মোহন বলেন, ‘আমি হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়ায় বিকাশের দোকানে চাকরি করি। ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি বাবা মারা গেছেন।’

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাসেল মিয়া বলেন, রাজনের মা সাহাবৃদ্ধি গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে আট লাখ টাকা পেয়েছেন। আজ (শনিবার) তিনি তার ভাইদের কাছ থেকে বিক্রি করা সম্পত্তির টাকা থেকে ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। এ টাকা নিয়ে রাজনের মায়ের সঙ্গে রাজনের মামাদের ঝগড়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, রাজন শুক্রবার রাতে সাহাবৃদ্ধিতে মামার বাড়িতে ছিলেন। শনিবার সকালে ইউসুফপুরে এসে মা-বাবার কাছে টাকা চান। মূলত টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই বাবা ও ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাজন আগে গৌরীপুর বাজারে একটি ফার্মেসিতে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার।

 

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।