দুর্গাপূজায় রাজধানীর প্রতিটি মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, প্রস্তুত সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ, সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে এবং মণ্ডপের ইনচার্জরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ, বিপিএম সেবা।

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এবারের উৎসবকে তিনি পুলিশের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে দেখছেন। রাজধানীর প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে ডিএমপি।

 

মহালয়া থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময়কে সামনে রেখে এরই মধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। মণ্ডপের দায়িত্বে থাকা ইনচার্জদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

নিরাপত্তায় শুধু নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের ওপর নির্ভর করছে না ডিএমপি। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মাঠে থাকবেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম ও কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

 

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নিজেদের মণ্ডপের নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পূজা কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের ওপরও নজর রাখতে হবে। নিজেদের উদ্যোগে মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

 

জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার।

 

সভায় ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ডিএমপির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএমসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

এ ছাড়া সভায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।