অনলাইন ডেস্ক:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে অগ্নিসংযোগ ও ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। প্রায় একই সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশার বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
ডা. মুরাদ হাসান ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরই নানা বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সমালোচিত হন।
বিশেষত, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন, সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ অপসারণের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এছাড়া চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশ্লীল ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর তিনি ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন।
এ সব কারণে সরকার তাকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিলে তিনি কানাডার দিকে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে তা ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং পরাজিত হন।
মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার দুই মেয়াদে এমপি ও মন্ত্রী থাকাকালীন সরকারি বরাদ্দ লুটপাট, নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি এলাকায় ‘মুকুল বাহিনী’ গঠন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মো. চাঁদ মিয়া জানান, মুরাদ হাসানের বাড়িতে ভাঙচুরের বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।











