নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল ‘মধুমিতা’ বন্ধের ঘোষণায় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে, এক সপ্তাহ পর হল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং পুনরায় চালু থাকার সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের এক রকম সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু পরে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। আপাতত হল বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।”
আগে নওশাদ জানিয়েছিলেন, হল বন্ধ রাখার কারণে স্টাফদের বেতন দেওয়ার সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা হল বন্ধের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছিল। তবে, আপাতত সেই চিন্তা দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “কোটি টাকা খরচ করে মধুমিতা হল আধুনিকায়ন করেছি। আশা ছিল পৈতৃক এই ব্যবসাকেই টিকিয়ে রাখব। কিন্তু দেশে সিনেমার বাজারের ধারাবাহিক পতনে সেই আশা এখন মরীচিকায় রূপ নিয়েছে।” তিনি জানান, মাল্টিপ্লেক্স গড়ে তোলার বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন এবং ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল।
এদিকে, আসন্ন ঈদুল ফিতরে মধুমিতা হলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ‘বরবাদ’ সিনেমা। নওশাদ আশা করছেন, যদি এই সিনেমাটি হলে ভালো দর্শক টানতে পারে, তবে মধুমিতা হলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হবে।
১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান মধুমিতা হলের উদ্বোধন করেন। তার পর থেকে এটি ঢাকার চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য একটি স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ থেকে শুরু করে আধুনিক সিনেমার নানা স্মৃতি ধারণ করে রেখেছে এই হলটি। মধুমিতা বন্ধের ঘোষণায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলটি চালু রাখার জন্য আহ্বান জানান।
এখন, চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস ও স্বস্তির মাঝে মধুমিতা সিনেমা হলের যাত্রা অব্যাহত রাখা হয়েছে। চলচ্চিত্র বাজারের প্রতিকূলতার মধ্যেও মধুমিতা হলের এই অব্যাহত যাত্রা বাংলাদেশের সিনেমা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। ঈদুল ফিতরে দর্শক সমাগমের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী হল কতটা পুনর্জীবন লাভ করতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।










