নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির আগমন শুরু হলেও এর সুফল মিলছে না ক্রেতাদের থলেতে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে, আর কিছু সবজির দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকাও। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে বেশ চাপে পড়তে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। তবে এর বিপরীতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ডিমের বাজারে, যেখানে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেশ খানিকটা কমেছে। পাশাপাশি আলু, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম রয়েছে নাগালের মধ্যেই, আর মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
বাজারে শীতের আমেজ থাকলেও চড়া দামের কারণে স্বস্তি ফেরেনি সবজিতে। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি দেশি টমেটো ১৪০ টাকা, ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচা টমেটো ১০০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১৪০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের বেগুনের সরবরাহও বেশ চড়া দামে চলছে। প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে শিম ১২০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাকরোল ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, হাইব্রিড পটল ৮০ টাকা, দেশি পটল ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির এই চড়া বাজারের তালিকায় রয়েছে আরও অনেক আইটেম। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা এবং লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি করে যাচ্ছেন বিক্রেতারা।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবজি বিক্রেতা মো. রাজিব জানান, সবজির দাম এখন কমে আসছে অনেকটাই এবং কয়েকদিন পর তা আরও কমে যাবে। তার মতে, যেহেতু এখন অনেক সবজিই নতুন বাজারে আসছে, তাই দাম কিছুটা বেশি রয়েছে, তবে হিসাব অনুযায়ী এবার কিছুটা আগেই দাম কমা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, চড়া বাজার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাজার করতে আসা কাওসার হোসেন বলেন, সবজির দাম অনেক বেশি এবং কবে কমবে তা কেউ জানে না। তিনি জানান, কোনো কিছুই তো কিনে শান্তি পাওয়া যায় না, কারণ যেটাই হাতে ধরা হয় সেটারই অনেক দাম চাওয়া হয়।
সবজির বাজারে স্বস্তি না মিললেও গত সপ্তাহের মতো এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে আদা-রসুন-আলু ও পেঁয়াজের বাজার। আজকের বাজারে ক্রস জাতের পেঁয়াজ আকার ও মানভেদে ৫০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে লাল ও সাদা আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ টাকা এবং বগুড়ার আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। অন্যদিকে, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং চায়না আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রান্নার অন্যতম প্রধান উপাদান ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাংসের বাজার আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। বাজারে মুরগি ও হাঁসের ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, যার মধ্যে প্রতি ডজন ছোট সাইজের লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকায়, আর হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৮০ টাকা।
মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৮ থেকে ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩১৫ থেকে ৩৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও রয়েছে দামের বেশ ভিন্নতা। আকার ও ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কালিবাউশ মাছের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারের পরিধি ছড়িয়ে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছে। প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বাতাসি মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজলি মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মেনি মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের বাজারে এবার কোনো ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের বাজারে ছোট মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারির ডাল ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তেল ও চিনির বাজারেও আগের ধারা বজায় রয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৫ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কৌটাজাত ও খোলা ঘি প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত ও খোলা চিনি ১১০ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রান্নার মসলার বাজারেও রয়েছে নানা দামের সমাহার। প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা, জিরা ৫০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।










