সুনামগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ মৎস্যজীবী পরিবারের বসতঘর ভস্মীভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩টি মৎস্যজীবী পরিবারের সমস্ত বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে আকস্মিকভাবে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মূলত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই হঠাৎ করে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালান এবং একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে তার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ১৩টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ভয়াবহ এই আগুনে সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন সুমলাল দাশ, দীনেশ দাশ, গর্মন দাশ, লামা কান্ত দাশ, সুবল দাশ, কুশিলাল দাশ, মিতি লাল দাশ, ধীরেন্দ্র দাশ, প্রমোদ দাশ, বারীন্দ্র দাশ ও অমিত লাল দাশসহ মোট ১৩ জন ব্যক্তি।

সর্বস্বান্ত হওয়া এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র মৎস্যজীবী শ্রেণীর। হঠাৎ মাথার ওপরের ছাদটুকু হারিয়ে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, তারা খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ মানবেতর দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার বেলাল হোসেন জানান, তাদের প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই মূলত এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং ঘরগুলো পরপর লাগোয়া ও কাছাকাছি থাকায় আগুন খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ১৩টি ঘরই পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আমরা বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করছি এবং খুব দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’