নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত রাহাদ নামের এক যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভৈরব পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কে দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষের ঘটনা। উত্তপ্ত ওই পরিস্থিতিতে ৪ থেকে ৫টি দোকানপাট ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে পুলিশ ও এসআরবির হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মীরবাড়ির বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে মাওলানা শাহরিয়ার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ‘আমেরিকা প্রবাসী ইকবাল মিয়া নামের এক ব্যক্তি ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় স্থানীয় লোকজনের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন’—এমন অভিযোগ তুলে একটি লেখা ও ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই লেখাকে ঘিরেই মূলত একই এলাকার আমজাদ আলীর বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়ার সঙ্গে শাহরিয়ারের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আর এই সামান্য বিষয়টির সূত্র ধরেই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ ও ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানসহ এসআরবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সংঘর্ষের এই ঘটনায় উভয়পক্ষের মোট ১৫ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী এক তরুণকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর সংবাদ সংগ্রহের সময় অভিযুক্ত দুইপক্ষের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাদের কাউকেই বক্তব্য দেওয়ার জন্য রাজি পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, দুপুরের দিকে শহরের দক্ষিণপাড়া এলাকায় শাহরিয়ার ও রায়হান মিয়া নামের আরেকটি ছেলের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন নাকি সেই বিষয়টি মীমাংসাও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও সন্ধ্যার দিকে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিতান্তই একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং খবর পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। সাম্প্রতিক সময়ে ভৈরবে প্রায়ই অতি তুচ্ছ কারণে বারবার ঝগড়া ও সংঘর্ষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি তথা সমাজপতিসহ স্থানীয় নেতাদের এসব বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সচেতন করে তুলতে হবে। তা না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলবে এবং এতে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি না হলে কেবল পুলিশের একার পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।











