উত্তরায় চীনা নাগরিকদের ‘রহস্যময়’ ভিডিও ধারণ, নেপথ্যের কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্যামেরা হাতে রাজধানীর উত্তরার অলিগলি থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার ভেতরে নিয়মিত ঘুরে বেড়াচ্ছেন একদল চীনা নাগরিক, আর মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন চারপাশের নানা দৃশ্য; যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন। আসলে কেন এই ভিডিওগুলো ধারণ করা হচ্ছে এবং কী কাজেই বা ব্যবহার করা হচ্ছে এসব ডিজিটাল ফুটেজ?

রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় নিয়মিতই দেখা মিলছে এই চীনা নাগরিকদের, যারা মোবাইল ফোন উঁচিয়ে বিভিন্ন স্থান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ভিডিও ধারণ করে চলেছেন। প্রথম দেখায় বিষয়টি সাদামাটা কোনো ভিডিও ধারণের মতো মনে হলেও, নিয়মিত এই কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দানা বেঁধেছে নানা সন্দেহ ও প্রশ্ন। সবার মনেই একটাই কৌতূহল, ঠিক কী উদ্দেশ্যে তারা এমন ভিডিও করে বেড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে উত্তরার স্থানীয় মুদি দোকানিরা বলছেন, তারা দোকানে এসে চারপাশটা দেখে যান কিন্তু কিছুই কেনেন না; বরং দোকানে এসে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ ও চালের দিকে তাকিয়ে মোবাইল ফোনে সেগুলোর ভিডিও ধারণ করেন এবং এভাবে নিয়মিত এসে তারা এক প্রকার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান।

এমন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি পরিষ্কার করতে কয়েকজন চীনা নাগরিকের মুখোমুখি হয়ে কথা বলার চেষ্টা চালানো হয়, যেখানে ভাষাগত বড় ধরনের দূরত্ব ও সমস্যা এড়াতে মোবাইল ফোনের অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন তারা এভাবে ভিডিওগুলো ধারণ করছেন।

তখন একজন চীনা নাগরিক সাফ জানান যে, তাদের ধারণ করা এসব ভিডিও মূলত চীনা দর্শকদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়। এছাড়া আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তারা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে লিখে জানান যে, মূলত চীনা বিভিন্ন পণ্যের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যেই তারা এই ধরনের ভিডিও তৈরি করে থাকেন।

কয়েকজন চীনা নাগরিক অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে আরও জানান যে, এই ভিডিওগুলো তারা চীনভিত্তিক জনপ্রিয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম যেমন উইচ্যাট ও টিকটকে পোস্ট করে সেখান থেকে বেশ ভালো অংকের অর্থ উপার্জন করেন। মূলত ঢাকার নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করে এমন এলাকাগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকে বলেই তারা উত্তরার এই নির্দিষ্ট কিছু এলাকা বেছে নিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের জোরালো দাবি, উত্তরার টেকপাড়া এলাকায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা নাগরিক বসবাস শুরু করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, অতীতে এই এলাকায় চীনা নাগরিকদের সংখ্যা বেশ কম থাকলেও বর্তমানে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্য থেকে কয়েকজন বাসিন্দা গুরুতর অভিযোগ করে জানান যে, তাদের এই ভিডিও ধারণের বিষয়ে কেউ আপত্তি বা প্রতিবাদ জানালে একাধিক চীনা নাগরিক একসঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে সেখানে উপস্থিত হন, যা এলাকাবাসীর মনে এক ধরনের অস্বস্তি ও ভয়ের জন্ম দিচ্ছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওদের মুখের ভাষা তো আমরা বুঝি না, তারা কী বলে বা না বলে সেটাও পরিষ্কার নয়; তাছাড়া তারা কেন এই টেকপাড়া রোডে বারবার বেশি করে আসছে, তা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও যোগ করেন যে, অনেকেই এই পরিস্থিতিতে দারুণভাবে বিরক্ত বোধ করছেন, কারণ গত তিন বা চার মাস ধরে তারা এলাকার প্রায় প্রতিটি দোকানে গিয়ে নিয়মিতভাবে ভিডিও ধারণ করে চলেছেন।

ভিডিও ধারণের এই পুরো উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা ধরনের ধোঁয়াশা ও প্রশ্ন থেকেই গেছে। তাদের পরিষ্কার দাবি, এটি আদতে চীনা পণ্যের প্রচারের কোনো স্বাভাবিক অংশ নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, সেই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।