গুয়ান্তানামোতে কারাবন্দিদের তৃতীয় ফ্লাইট পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক:

কিউবায় অবস্থিত মার্কিন গুয়ান্তানামো বে কারাগারে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তৃতীয় ফ্লাইট পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শুক্রবার, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম গুয়ান্তানামো বে পরিদর্শন করেন এবং পরিদর্শনের বিস্তারিত সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন।

নোম তার পোস্টে জানিয়েছেন, “নিষ্ঠুর গ্যাং সদস্যরা আর আমাদের দেশে নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।” তবে, তিনি কতজন বন্দিকে সামরিক কার্গো জেট থেকে নামানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে বা তাদের অপরাধের বিবরণ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। ইউএস সাউদার্ন কমান্ড এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা জানিয়েছে, কারাগারে বর্তমানে ৩৬ জনের বেশি বন্দি রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার, মার্কিন সামরিক কার্গো বিমানে ১৩ জন ব্যক্তিকে গুয়ান্তানামো বে পাঠানো হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তারা জানান, এর আগে মঙ্গলবার ১০ জন সদস্যকে পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার একটি স্ট্রিট গ্যাং ‘ট্রেন ডি আরাগুয়া’ এর সদস্য ছিল। হোয়াইট হাউস এই গ্যাংকে বিদেশী সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

এদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তারা দাবি করছে, সরকারকে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে আটককৃত ব্যক্তিদের আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে।

এই কারাগারটি ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এবং বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের প্রশাসন এটি বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আবার এটি ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।