নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবস্থায় এক কোটি বা তার বেশি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমপক্ষে ২৬ হাজার কোটিপতি এক কোটি টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এসব উত্তোলনের ফলে, ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৯৭৫ সালে দেশে এক কোটি টাকার বেশি ছিল মাত্র ৪৭টি অ্যাকাউন্ট, যা ২০১৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ৫১৬টি। ২০২০ সালের মার্চে, কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। বর্তমানে তা বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজারে পৌঁছেছে।
তবে দেশের প্রকৃত কোটিপতির সঠিক সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা থেকে কিছুটা আনুমানিক হিসাব করা যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এসব অর্থ উত্তোলনের পেছনে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্কের প্রভাবকেই দায়ী করেছেন। তাদের মতে, দুর্বল ব্যাংকগুলো কোটিপতিদের বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে, যার ফলে অনেকেই তাদের মূলধন স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর ফলে, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে একক হিসাবে একীভূত তহবিল এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আশানুরূপ পরিণতি না হওয়ার কারণে, এক কোটি বা তার বেশি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে, যা প্রত্যাশিত ছিল না।











