অনলাইন ডেস্ক:
সারাদেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “কোনো শয়তান যেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে পালাতে না পারে।” তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন।
এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের ফ্যাসিবাদী শক্তি ও দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা।” তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, তবে তাদের দোসররা দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের সম্পদ লুটপাট করে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হয়েছে।”
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের সময়ে গণমাধ্যম দখল, পুঁজিবাদী শ্রেণি তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে।” তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছর ধরে তাদের অর্জিত অবৈধ সম্পদের মাধ্যমে অপশক্তির সহায়তায় দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।”
এছাড়া, তিনি জানিয়ে দেন, “জুলাই-আগস্ট হত্যাকা-ের সাথে সরাসরি জড়িত সন্ত্রাসী ও নরহত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ বাহিনী, অর্থ পাচারকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”
এ সময় তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছেন এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “এই অভিযানের সমন্বয়ের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ‘জয়েন্ট অপারেশন সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা কোনো অপরাধীকে রাস্তায়, বাজারে বা রাজপথে দেখতে চাই না। প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।











