অনলাইন ডেস্ক:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার হওয়া নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন টর্চার সেল ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সেই নির্যাতনকেন্দ্র সনাক্ত করেছেন। গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আয়নাঘর পরিদর্শন করে তারা জানিয়ে দেন, যেখানে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল, সেই কক্ষগুলো তারা চিহ্নিত করেছেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, তাকে যে কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল, সেই কক্ষে একপাশে টয়লেটের মতো একটি বেসিন ছিল। ৫ আগস্টের পর সেলগুলোর মাঝের দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয় এবং সেগুলো নতুন করে রং করা হয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি দেয়াল দেখে কক্ষটিকে চিনতে পেরেছি। আগে এটি ছোট ছিল, এখন মাঝের দেয়াল ভেঙে বড় করা হয়েছে।” ওই কক্ষে তাকে ৪ দিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। টয়লেট ছিল কক্ষের বাইরে এবং তাকে চোখ বেঁধে টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হতো।
এই পরিদর্শন শেষে, অধ্যাপক ইউনূস রাজধানীর কচুক্ষেত, উত্তরা এবং আগারগাঁও এলাকার তিনটি গোপন কারাগার পরিদর্শন করেন, যেখানে বিগত সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষকে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি জানান, “এটি ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের একটি নমুনা। এখানে মনুষ্যত্ববোধের কিছুই ছিল না।”
তিনি বলেন, “বিনা দোষে অনেক মানুষকে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি বানিয়ে আটক করা হয়েছিল।” ইউনূস আরও বলেন, “এ ধরনের টর্চার সেল সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এর সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।”
অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শুনে গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা কি আমাদের সমাজ? এটি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
এছাড়া, তিনি সরকারের নির্যাতনমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য অপমানজনক এবং অমানবিক।”











