গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পানি সংকটে লাখো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক:

ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় খাদ্যসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা বন্ধের পর এবার বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন করেছে। এর ফলে অঞ্চলটির একটি বিলবণীকরণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, যা নিরাপদ পানি সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের অনাহারে মারার কৌশল নিয়েছে।

স্থানীয় সময় রবিবার (৯ মার্চ) ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইসরায়েল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। -খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।

গাজা উপত্যকায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল অঞ্চলটিতে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে সেখানে রমজান মাসে খাবার ও নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার আওতায় ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তির বিনিময়ে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ১ মার্চ এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন ইসরায়েল চাইছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার আগে হামাস যেন আরও জিম্মি ছেড়ে দেয়। কিন্তু হামাস যুদ্ধবিরতির নতুন ধাপে গাজার ওপর ইসরায়েলি সেনাদের দখলদারিত্ব পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের কাছে বর্তমানে ২৪ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি এবং ৩৫টি মৃতদেহ রয়েছে। আলোচনা এগিয়ে নিতে ইসরায়েল ইতোমধ্যে কাতারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে।

রবিবার হামাস এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি গাজার খাদ্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তাহলে এর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। জবাবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজায় সব ধরনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে প্রস্তুত।

১৫ মাস ধরে চলা যুদ্ধে গাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালসহ অধিকাংশ স্থাপনা বিদ্যুতের জন্য এখন জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গাজার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এখন তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি ফিলিস্তিনিদের অনাহারে মারার কৌশল। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সব আইন লঙ্ঘন করছে।’

ইসরায়েলি সংস্থা গিসা জানিয়েছে, ‘গাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিলবণীকরণ কেন্দ্রটি প্রতিদিন ১৮ হাজার ঘনমিটার পানি পরিশোধন করত। জেনারেটরের সাহায্যে এখন মাত্র ২,৫০০ ঘনমিটার পানি পরিশোধন সম্ভব, যা একটি অলিম্পিক সুইমিংপুলের পানির সমান।’

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইসরায়েল যে কৌশল নিয়েছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে তারা।