নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক ফল আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “চূড়ান্ত শুল্কহার নির্ধারিত হবে ইউএসটিআরের (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে। এজন্য আমাদের একটি বৈঠক রয়েছে, এবং এখনো শুল্কহার চূড়ান্ত হয়নি।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর হবে। যদিও এটি পূর্বে প্রস্তাবিত ৩৭ শতাংশ থেকে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও এটি ভিয়েতনামের জন্য ঘোষিত ২০ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
এই শুল্কহার সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা, যিনি ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী ৮ জুলাই এবং বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ৯ জুলাই ভোরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের আলোচনার অবস্থান দুর্বল হতে পারে—এমন ধারণা নাকচ করে দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ১২৫ বিলিয়ন ডলার, আর বাংলাদেশের মাত্র ৫ বিলিয়ন। এজন্য ভিয়েতনাম বেশি ছাড় পেয়েছে। তবে আমরা যৌক্তিকভাবে আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি।”
তিনি আরও জানান, “সরকার আলোচনার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এখন পর্যন্ত যত বৈঠক হয়েছে, সবই ইতিবাচক ছিল।”
এদিকে, একই চিঠিতে ট্রাম্প আরও ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১৩টি দেশের জন্য নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে। এর মধ্যে মিয়ানমার ও লাওসের জন্য ৪০ শতাংশ, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের জন্য ৩৬ শতাংশ, সার্বিয়া ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৩২ শতাংশ, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, তিউনিসিয়া, কাজাখস্তান ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার জন্য ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেন, কোনো দেশ পাল্টা শুল্ক বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র আরও কড়া পদক্ষেপ নেবে।











