অনলাইন ডেস্ক:
বাংলার পতৌদি পরিবারের নবাব এবং বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান ১৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নিজ বাড়িতে দুষ্কৃতকারীর হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে, গত মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে যান তিনি। কিন্তু সাইফকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সাহসিকতার জন্য এক অটোচালক, ভজন সিং রানার জীবন বদলে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে রাতে, যখন সাইফের পরিবার বান্দ্রার বাড়ির সামনে চিৎকার করে অটোচালককে সাহায্য করতে ডাকছিলেন। তখন ভজন নামের ওই অটোচালক এগিয়ে এসে অভিনেতাকে লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে, সাইফ আলী খানের ওই সাহসিকতার কাহিনি ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভজন দ্রুত সবার নজরে চলে আসেন।
ভজন জানিয়েছেন, “আমি জানতাম না যে যাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, তিনি একজন অভিনেতা। আমি শুধু সাহায্য করতে চেয়েছিলাম, মানবিকতার খাতিরে।” যদিও বর্তমানে তার নাম সবার মুখে, তবে এই খ্যাতির জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। গণমাধ্যমের চাপ এবং তার ছবি নিয়ে নেট দুনিয়ায় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভজন কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ভজন জানান, “আমি তারকা হতে চাই না, যা করেছি সেটাই করেছি। আমি তো সাহায্য করতে গিয়েছিলাম, আর কিছু নয়।” তিনি আরও বলেন, “যতটা সম্ভব, মানুষের সাহায্য করা উচিত। দয়ালুতা মানুষকে ভালোবাসা দেয়। ভবিষ্যতেও আমি কারো বিপদে সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।”
ভজনের প্রতি সাইফ আলী খানের পরিবারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, আর মুম্বাইয়ের এক সংস্থা তাকে ১১ হাজার টাকা দিয়েছে। তবে টাকার বিষয়ে ভজন কিছু বলতে চাননি।
ভজনের মতে, সাহায্য করা এক ধরনের মানবিক দায়িত্ব, এবং তিনি আরও বলেন, “যখন কেউ বিপদে পড়ে, ভয় পাবেন না। এগিয়ে আসুন, আপনি সাহায্য করলে নিজের মনও শান্ত থাকবে।”
এই এক রাতের ঘটনাটি ভজনের জীবন বদলে দিলেও, তিনি এখনো স্বাভাবিক জীবনযাপনেই বিশ্বাসী। “আমি কোনও তারকা হতে চাই না, আমি শুধু একজন সাধারণ মানুষ,”—এভাবেই তিনি তার জীবনকে মূল্যায়ন করেছেন।











